
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ফেসবুকে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সবার নাম পরিচয় জানা না গেলেও তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, হাজীপুর গ্রামের মৃত সুরত আলীর ছেলে আরজু মিয়া ও তার বোন আকলিমা বেগমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাকবিতণ্ডার জেরে কয়েকদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। গত ১৪ আগস্ট আকস্মিকভাবে আরজু মিয়া ও আকলিমা বেগমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে শনিবার সকালে পাঠান বাড়ি ও ঐক্কি বাড়ির শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুরও হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় বিজয়নগর থানা পুলিশ। পরে স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজয়নগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অমিতাভ দাস তালুকদার বলেন, “সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
সংঘর্ষের পর হাজীপুর গ্রামে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আহতদের স্বজনরা বলছেন, তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তাদের পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।





