
মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর)
গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে পাকেরহাট শাপলা চত্বরে খানসামায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক আজিজার রহমান এবং সঞ্চালনা করেন দৈনিক আজকের পত্রিকা-এর প্রতিনিধি এস এম রকি।
মানববন্ধনে খানসামা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মো. নুরনবী ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিক তুহিন ছিলেন একজন নির্ভীক ও সৎ সংবাদকর্মী। তিনি সত্য তুলে ধরায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলের চাপে ছিলেন। অবশেষে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বারবার এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
ইন্টেরিয়ম সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যাকান্ডের ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আপনাদের ব্যবস্থা অতি শিঘ্রই নিতে হবে। প্রশাসণকেও আরো কঠোর হতে হবে।
খানসামা সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি মাসুদ রানা বলেন, “সাংবাদিক তুহিনের হত্যা কেবল একজন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি”।
খানসামা সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সচিব ও দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন বলেন, গাজীপুর মহানগরীর মত একটি জায়গায় প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে একজন সাংবাদিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়ে গেছে। বিগত দিনে সাংবাদিকদের কন্ঠ রোধ করা হয়েছে।
কিন্তু ৫ই আগষ্টের পরে ইন্টেরিয়ম সরকার তার পরিবর্তন করতে পারেনি। সাংবাদিকসহ অরাজনৈতিক প্লাটফর্মে নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই যে, সাংবাদিক তুহিন হত্যাকান্ডে ইতোমধ্যেই যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককেই জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অতি দ্রুত সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।
দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ বলেন, “তুহিন ভাই শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি সত্যের সৈনিক ছিলেন। তার ওপর এই নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ড শুধু একজন মানুষ হত্যার ঘটনা নয়, এটি সত্যকে হত্যা করার একটি সন্ত্রাসী প্রচেষ্টা। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই হত্যাকারীদের জন্য এই দেশে কোনো স্থান নেই। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকের রক্ত ঝরানোর সাহস করতে না পারে”।
সমাপনী বক্তব্যে সিনিয়র সাংবাদিক আজিজার রহমান বলেন, “আমরা উপজেলার আন্দোলনের খবর প্রচার করি, আর আজকে আমরা আমদের সহকর্মীর হত্যার বিচারের দাবিতে নিজেরাই আন্দোলনে নেমেছি, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। আমরা দেখেছি কোন সরকারের সময়েই সাংবাদিকরা নিরাপদ নয়। আমরা আমাদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ চাই। আমরা দেখেছি দীর্ঘ এক যুগেও সাগর রুনি সহ কোনো সাংবাদিক হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতি করে নাই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার প্রতিনিধি সুজন শেখ বলেন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে যেভাবে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু একজন সাংবাদিক নয়, গোটা সাংবাদিক সমাজের ওপর এক নির্মম আঘাত।
আমরা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের কে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
দৈনিক মুক্ত খবরের প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সাংবাদিকরা কলমের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরি। কিন্তু যখন আমাদেরই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তখন গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- দৈনিক ভোরের দর্পন প্রতিনিধি সাজু সরকার, জনকণ্ঠের প্রতিনিধি লায়ন ইসলাম, স্বদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি বুলবুল ইসলাম, আলোকিত সকালের আলমগীর ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।





