⌚আজ রাত ১:২৭ 🗓️ ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদানে দূর্নীতির অভিযোগ

সেলিম হোসেন, নীলফামারী 

দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদানে দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মানুযায়ী অংশ গ্রহণের সম্মানী ভাতা দেয়া হলেও নাস্তা ও লাঞ্চ করানো হয়নি। এ বাবদ অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা শ্রমিকদের দেয়নি কারখানা কর্তৃপক্ষ। একারণে প্রশিক্ষনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এর প্রতিবাদে একদিন কর্মবিরতিও পালন করেছে তারা।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে সচতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ইন হাউজ ট্রেনিং’ করানো হয়। একদিনের এই ট্রেনিং সপ ভিত্তিক সুবিধামত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ গ্রহণকারী শ্রমিকদের সকাল ও বিকেলের নাস্তা এবং দুপুরের লাঞ্চ করানোসহ সম্মানী ভাতা দেয়া হয়।

প্রতি বছরের মত এবারও এই ট্রেনিং বাবদ ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে কারখানার ২৮ টি সপের মোট ৬৫০ জন স্থায়ী শ্রমিক অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেককে ভাতা বাবদ মাত্র ৫ শ’ টাকা করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণের দিনের খাবার বা এবাবদ বরাদ্দ অর্থ দেয়া হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

শামীম নামে একজন শ্রমিক বলেন, প্রতি বছরই ট্রেনিং করলে প্রশিক্ষণ ভাতা ও খাবার বাবদ এক হাজার টাকা দেয়া হয়। অথচ এবার শুধু ৫শ’ টাকা দিয়েছে। বাকি টাকার কোন হদিস নেই। মূলত: আত্মসাৎ করতেই ওই টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। শ্রমিকরা এনিয়ে বার বার চাপ দিলেও কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি।

বাধ্য হয়ে আমরা প্রতিবাদ স্বরূপ একদিন কর্মবিরতি করেছি। এরপর বলা হচ্ছে ওই টাকা দিয়ে কারখানার সব শ্রমিকদের নিয়ে বড় ধরনের খাবার আয়োজন করা হবে। কিন্তু এটা কি নিয়মের মধ্যে পড়ে। যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে এই টাকা তো তাদের প্রাপ্য। তাদের না দিয়ে সবাইকে নিয়ে এমন আয়োজন কতটুকু সঠিক?

একইভাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শ্রমিক জানান, একজনের প্রাপ্য কেন অন্যদের জন্য খরচ করা হবে? কারখানা কর্তৃপক্ষের যদি শ্রমিকদের প্রতি এতো দরদ থাকে তাহলে এই টাকায় কেন? কারখানার নিজস্ব ফান্ড থেকে বা কর্মকর্তাদের টাকায় খাওয়ার আয়োজন করুক। আমাদের হক আমরা চাই। যদি তা না করা হয় তাহলে আন্দোলন শুরু করা হবে।

এব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের জন্য প্রশিক্ষণ বাবদ ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা আমি আসার আগেই খরচ করা হয়েছে। বাকী ১০ লাখ টাকার মধ্যে সাড়ে ৬ শ’ শ্রমিককে ৫ শ’ টাকা করে ভাতা দেয়া হয়েছে। আর খাবার বাবদ ৫৮০ টাকা করে আমাদের কাছে জমা আছে।

এই টাকা আমরা সবাই মিলে খাবো। অর্থাৎ সকল শ্রমিককে নিয়ে একদিন বড় আয়োজন করে নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করাসহ একসাথে খাওয়া হবে। এটা কি প্রশিক্ষণের কার্যবিধির মধ্যে পড়ে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে করা হয়নি। তবে এবার এই রীতি চালু করতে চাই। যা আগামীতেও প্রচলিত থাকবে। এতে কারো দ্বিমত থাকতে পারেনা। ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সাথে কথা বলেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

68 বার দেখা হয়েছে

বিভাগের সংশ্লিষ্ট খবর

সর্বশেষ প্রকাশিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ সোহরাব হোসেন

কার্যালয়ঃ সুপার মার্কেট, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া 

ই-মেইলঃ sohrabhossan1978@gmail.com

মোবাইলঃ +8801781935383

যোগাযোগ 
বিজ্ঞাপন
বার্তা বিভাগ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০০৯-২০২৫ পাক্ষিক সালদা
Design By - Santo BD