
রুবেল আহমেদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার অবিভক্ত সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক এলাকার গণমানুষের প্রিয়ভাজন সদ্য প্রয়াত হামিদুল হক মাষ্টারের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত পৌর শহরের কোয়ালিটি স্কুল মাঠে স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই স্মরণ সভা আয়োজন করা হয়।
কোয়ালিটি স্কুল অধ্যক্ষ মোঃ আল আমিন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত হামিদুল হক মাষ্টারের সন্তান বিশিষ্ট সমাজ সেবক মনিরুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওডিপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বাচ্চু, কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল খায়ের স্বপন, যুগান্তর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, কোয়ালিটি স্কুল পরিচালক ও ” সার্চ” সাধারন সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান, কোয়ালিটি স্কুল ও স্কলার ইনস্টিটিউট পরিচালক মোঃ সালাউদ্দিন ও গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিক মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন পারভেজ, রুবেল আহমেদ প্রমুখ। স্মরণ সভায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কোয়ালিটি স্কুল ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা হাফেজ মো: ইয়াহিয়া । এসময় স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

১৮ জুন বুধবার ভোরে পৌর শহরের শীতলপাড়ায় নিজ বাড়িতে ৮৬ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই গুণী মানুষটির মৃত্যুর খবরে পরিবারে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওই দিনই বাদ আছর কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাঁর জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়া থাকা সত্বেও শত শত শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনরা কলেজ মাঠে জানাযায় অংশ নেয়।
স্মরণ সভায় বক্তাগন বলেন, প্রয়াত হামিদুল হক মাষ্টার ছিলেন একজন সর্বজনপ্রিয় মানুষ। ব্যাক্তিগত জীবনে স্পষ্টভাষী ও সদালাপী একজন মানুষ ছিলেন মরহুম হামিদুল হক মাষ্টার। পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষক হিসেবে এলাকার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা ছিলো শিক্ষানুরাগী এই মানুষটির। এলাকায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষা দানের পাশাপাশি নিজেও গড়েছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৮০ র দশকে তৎকালীন কসবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানুষের সেবায় আত্মতৃপ্তি পেতেন তিনি।এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সমস্যা নিরসনে রয়েছে এই মানুষটির পদচারণা। এই গুণী মানুষটির চির বিদায় হলেও যুগ -যুগান্তরে বেঁচে থাকবেন তাঁর করে যাওয়া কর্মে। কবি যেমন বলেছিলেন , “মানুষ বেঁচে থাকে তাঁর কর্মে, বয়সে নয়”।





