
জীবনের ছয় দশক পূর্ণ করে শিক্ষকতা জীবনেরও ২৪ বছরের সফল পথচলার অবসান। বিদায় নিলেন শিক্ষকতা পেশার এক আলোকবর্তিকা—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর আলহাজ্ব শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক ভবনভেদী আবেগঘন ও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার। কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে শুরু করে ২৪ বছর ধরে শিক্ষকতা করে যাওয়া এই শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে জড়ো হন সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী, সাবেক শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক তাজুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা, স্মারক উপহার এবং শ্রদ্ধাভরে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের পর তাঁকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে গার্ড অব অনারের মতো মর্যাদায় তাঁর নিজ বাড়ি ভুল্লাবাড়ি গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা মুহূর্তটিকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. আকরাম খান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপীনাথপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের পরিচালক মামুনুর রশিদ খান হেলাল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া।
বক্তারা বলেন, “তাজুল ইসলাম শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শ, একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর শিক্ষাদান ছিল জীবনের পাঠ। তাঁর অভাব কখনো পূরণ হবার নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন
২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জহিরুল ইসলাম,
১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জাকির হোসেন,
কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শফিক মুন্সি ও মমিনুল ইসলাম মলাই,
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মিথুন, জহিরুল ইসলাম, রফিক বিডিআর, সেন্টু মিয়া, সাচ্চু মিয়া,
ছাত্রনেতা রাজিবুল ইসলাম রাজিবসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শত শত শিক্ষার্থী।
অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বিদায় বক্তৃতায় অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন—
> “এই কলেজ আমার দ্বিতীয় পরিবার। ছাত্রদের মুখে সফলতা দেখেছি, সহকর্মীদের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছি একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু মন পড়ে থাকবে এখানেই।”
অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে ছিল কৃতজ্ঞতা। কেউ কেউ ‘তাজুল ইসলাম স্যার’ এর হাত ছুঁয়ে বিদায় নিতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন।





