
লিয়াকত মাসুদ
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মনকাশাইর ও সৈয়দাবাদ গ্রামের মাঝামাঝি একটি সড়ক অংশে প্রতিমাসে গড়ে ১০ থেকে ১৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার জন্য চালকরা এক ধরনের রহস্যজনক ছায়ামূর্তিকে দায়ী করছেন। তাদের ভাষ্যমতে, রাতের বেলায় গাড়ি চালিয়ে ওই স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে ছায়ার মতো একজন মানুষের অবয়ব দেখা যায়। ফলে তারা ভয় পেয়ে যান এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।
সম্প্রতি দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাতের বেলা ওই স্থানের কাছে গেলেই হঠাৎ মনে হয় কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়। ছায়ামূর্তির মতো একটা অবয়ব দেখতে পাই। তখন ভেতরে এক ধরনের ভয় ঢুকে যায়। কীভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি বুঝতেই পারি না।
আরেক ট্রাকচালক করিম মিয়া বলেন, এক রাতে আমি ওই অংশ পার হচ্ছিলাম। হঠাৎ সামনে একটা ছায়ার মতো কিছু দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। গা কাঁটা দিয়ে ওঠে। আমি ভয় পেয়ে ব্রেক চাপতে গিয়ে গাড়ি ঘুরে যায়। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ আহাম্মদ বলেন, এই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার পর চালকরা একই ধরনের অভিযোগ করেন যে , তারা রাস্তায় কিছু অদ্ভুদ দেখতে পেয়েছেন। রুবেল মিয়া নামক আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অধিকাংশ সময়েই ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে থাকে। পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসী একাধিকবার মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করেছেন। তবুও এ পরিস্থিতির কোন বদল হচ্ছেনা। যার ফলে মহাসড়কে চলাচলকারি ট্রাক ড্রাইভারদের সাথে এলাকাবাসীও আতঙ্কে থাকে।
তবে এসব ঘটনাকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছেন খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন রহমান। তিনি বলেন, প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও বাস এই সড়কে চলাচল করে। যদি ভৌতিক কিছু থাকতো তাহলে সব গাড়িই দুর্ঘটনায় পড়তো। এসব কল্পনা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত রাস্তার বাঁক, অপ্রতুল আলো ও সঠিক সতর্কতামূলক চিহ্নের অভাবের কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক বিভাগ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কার এবং সাইনবোর্ড স্থাপন করলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সড়ক বিভাগ থেকে এখনো পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেছেন, যথাসময়ে ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে।





