
আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা
কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে গণপিটুনিতে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় মুরাদনগর উপজেলার ২নং আকুবপুর ইউনিয়নের পীর কাশিমপুর গ্রামের সবির আহমেদ ও নাজিম উদ্দিন বাবুলকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় নিহত রুবি আক্তারের বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ৩৮জন নামের মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা আরো ২০থেকে ২৫জন আসামী করা হয়েছে। উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার (ওসি) মাহফুজুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার্ধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীসহ যৌথ অভিযান চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে উপজেলার করইবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—খলিলুর রহমানের এর স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রুবি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, সুদের কারবার, সন্ত্রাসসহ মাদক কারবারিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ডাকাতি ও সন্ত্রাসের একাধিক মামলা রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারিতেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে চরমভাবে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সম্প্রতি একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা রুবির বাড়িতে হামলা চালায় এবং বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা করে।
ঘটনার পর করইবাড়ী গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।





